জানা-অজানা মহাবিশ্বের যতসব কম্পন!

আমরা হর হামেশাই শোনে থাকি ভূমিকম্প কথা। কিন্তু কখনো কী ভেবে দেখেছি, পৃথিবীর ন্যায় এই মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কী কখনো ভূমিকম্প হয় কিনা? যদিও বা হয়, ঐ জাতের কম্পনগুলোকে কী নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে বা তাদেরকে কী আদৌ ভূমিকম্পের কাতারে ফেলা যাবে?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভূমিকম্প সূচনালগ্ন কিছু মতবাদ এবং অন্য গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্রপুঞ্জে এ দ্বারা  কিরূপ হানা পরিচালিত হয় তা সম্পর্কে।   

ভূমিকম্পসম্বন্ধে ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি- 

পৃথিবীতে  ভূমিকম্পসম্পর্কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের মতবাদ।  যেমনটা  ইসলাম ধর্মে ভূমিকম্পকে পাপকর্মের আযাব বা সতর্ক বাণী হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং সম্বোধন করা হয়েছে “যিলযাল” নামে। হিন্দু পুরাণে কারণ হিসেবে উল্লেখিত আছে পৃথিবী বহনকারী প্রাণীদের নড়াচড়ার কথা। জাপানি পৌরাণিক কাহিনীতে ভূমিকম্পের জন্য দায়ী করা হয় বড়ো আকারের ক্যাটফিশকে। এবং প্রাচীন গ্রীকদের বিশ্বাস মতে ছিলো, সমুদ্র দেবতা পজিডনের রাগের বশে আঘাত হানার কথা।

১৮৫৫ সালের এক কাঠের টুকরার উপর নামাজুর চিত্রায়ণ! জাপানি পুরাণ অনুযায়ী, যে বিশালাকার মাগুর মাছের বিশৃঙ্খলার কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হয় এবং সম্পদের পুনর্বন্টন হয়।

এমনই জাতি-ধর্ম ভেদে রয়েছে, ভুমিকম্পকের সূচনাকে ঘিরে স্ব স্ব মতামত।  

অন্যদিকে বিজ্ঞান তাদের স্তম্ভ তৈরি করেছে এই বলে যে, মাটির অভ্যন্তরে অবস্থিত শিলা কর্তৃক ঘটিত সংঘর্ষের ফলে যে পরিমাণ শক্তিশালী শক্তি নিসৃত হয়, তা ভূগর্ভের উপরিভাগে তরঙ্গের মাধ্যমে কম্পনের সৃষ্টি করে এবং ফলস্বরূপ ভূমিকম্প হয়। 

ভূমিকম্পের সূচনা যেখান থেকে হোক না কেন, প্রতিটি সময়ের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পাই ভূমিকম্পের কারণে অগণিত প্রানহানির ঘটনা ঘটেছে এবং বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।  

এই তো জানলাম পৃথিবীর কম্পন নিয়ে। এবার জেনেই নেই, অজানা বেশ কিছু কম্পনের সম্পর্কে! 

সৌরকম্পন 

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত সকল পদার্থের শক্তির উৎস হিসেবে বিজ্ঞান ধরে নিয়েছে সূর্য নামক নক্ষত্রকে। আমাদের এই অতি পরিচিত সূর্যের ফটোস্ফিয়ার স্তরেও কিন্তু কম্পনের সৃষ্টি হয়। যার বেগ সুনির্ধারিত না হলেও, হতে পারে ২২,০০০ মাইল প্রতি ঘন্টা এবং এরা মিলিয়ে যাওয়ার আগে প্রায় ২,৫০,০০০ মাইল পাড়ি দিতে পারে। 

সৌরকম্পন [পহেলা জুন, ১৯৯১]

শুককম্পন  

ম্যাগেলান মহাকাশযানের মাধ্যমে প্রথম শনাক্ত করা হয় শুককম্পনকে।ম্যাগেলান ১৯৯০ সালের নভেম্বরে এবং ১৯১৯ সালের ২৩ জুলাই দুইটি ছবি তুলেছিলো, যা পর্যালোচনা করেপরবর্তীতে শুককম্পন আবিষ্কারের সূচনা হয়।

শুকগ্রহের ঘণ বায়ুমন্ডলের গভীরে ব্যালুন পাঠানোর মাধ্যমে গবেষকরা আশা করেন খুব দ্রুত তারা সেইজমিক হৃদকম্পন তথা শুকম্পন শোনতে পাবেন

মঙ্গলকম্পন 

বুঝতেই পারছেন, এটি সংঘটিত হয় মঙ্গল গ্রহের মাটিতে। নাসা ইনসাইট কর্তৃক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয় মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি সম্পর্কে গবেষণা চালানোর জন্য। এবং সেই সূত্রে সম্ভবত একটি মঙ্গলকম্পনকে সর্বপ্রথম ২০১৯ সনের ৬ এপ্রিল পরিমাপ করা হয় নাসার ইনসাইট অবতরণকারীর মাধ্যমে তার আগেও ২০১২ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, প্রতি মিলিয়ন বছরে মঙ্গলকম্পন হতে পারে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের নকশায় তৈরি সেন্সর বোর্ড মার্স-ইনসাইট এখন পর্যন্ত ৪০০ টি কম্পন সনাক্ত করেছে লাল গ্রহে।

চন্দ্রকম্পন 

এটি প্রথম আবিষ্কার করে অ্যাপোলো নভোচারীরা। কম্পনসমূহ শক্তিশালী হলেও, ভূকম্পনের তুলনায় বেশ দূর্বল। এবং এরা কয়েকঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ীত্ব লাভ করে। চন্দ্রকম্পনের কারণে নভোচারীগণদের চাঁদে বসবাস নিয়ে প্রশ্নও উঠে। 

নাসা বলছে, যেহেতু কয়েক মিলিয়ন বছর যাবৎ ঠান্ডা হয়ে আসছে, সেহেতু চাঁদ ৫০ মিটারের মতো সংকুচিত হয়েছে এবং ফলস্বরূপ চন্দ্রকম্পন হচ্ছে।

তারাকম্পন 

৫০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে নিউট্রন তারার ভুত্বকে হঠাৎ সমন্বয়কে দায়ী করা হয় তারাকম্পনের জন্য। আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বৃহৎ তারাকম্পন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়  এসজিআর ১৮০৬-২০ নামক ম্যাগনেটারে। এটি একটি নিউট্রন তারা যা পৃথিবী হতে ৫০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে। এটির স্থায়িত্ব ছিলো মাত্র ১০ সেকেন্ড, কিন্তু এই কম্পনটি এতো বেশী শক্তি নিসৃত করেছিলো যা সূর্যের ১৫০০০০ লক্ষ বছরে শক্তি নিঃসরণের  চাইতেও অধিক।  

নাসার কৃত্রিম উপগ্রহ ফারমি “স্টর্ম” নামক ম্যাগনেটারে কম্পনের সংকেত পেয়েছে।

পৃথিবীর এই আগাম বার্তাহীন ভূমিকম্পেই আমাদেযেখানে মর্মান্তিক অবস্থার সৃষ্টি হয় সেখানে অন্যান্য গ্রহ মানুষের জন্য বসবাসযোগ্য গড়ে তুলা এখন কতো বড়ো চ্যালেঞ্জ বলে মনে হচ্ছে আপনার? সেই নিকটবর্তী ভবিষ্যৎ কী বহু আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত নাকি আমরা জয় করতে পারবো সকল বাধা? জানতে চাই আপনার যৌক্তিক মতামত।


    লেখক সম্পর্কে

    devadministrator

    একটি মন্তব্য to “জানা-অজানা মহাবিশ্বের যতসব কম্পন!”