স্ব-নরমাংসবাদ- নিজের শরীরের মাংস যারা খেয়েছিলো!

কখনো কি ইচ্ছে হয়েছে, নিজের শরীরের মাংস নিজে ভক্ষণ করার? অবশ্যই কোন স্বাভাবিক এবং সুস্থবান মানুষের এমন অদ্ভুত ইচ্ছে জাগ্রত হওয়ার কোন কারণ নেই। কিন্তু আমাদের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা তাদের নিজেদের শরীরের মাংস খেয়েছে বা খেতে ইচ্ছুক। তাহলে এমন উদ্ভট রাক্ষুসে স্বভাব কী গুরুতর কোন মানসিক বা শারীরিক রোগের লক্ষণ? কী কারণে এমনটা হয় এবং এমন কী আদৌ কোথাও ঘটছে কিনা তা নিয়ে আজ আমাদের এই লেখাটি। নরমাংসভক্ষণপ্রথা সম্বন্ধে বা ঘটনা সম্বন্ধে অনেকে কম বেশী শুনেছেন। আজ চলুন স্ব নরমাংসবাদ সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। লোমহর্ষক এবং ইতিহাসের বিকৃত মানসিকতার কিছু চিত্র আপনার মনে কল্পিত করার মাধ্যমে শুরু করতে চাচ্ছি এই লেখাটি।

  • দূর্বল হৃদয়ের লোক হয়ে থাকলে, অনুগ্রহ করে এই লেখাটি এড়িয়ে পরবর্তী অন্য কোন লেখা পড়ুন, ধন্যবাদ।

দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে পড়ে ফেলুন!

(১) ২০১৪ সালের কথা। ড্যাভিড প্লেইপেঞ্জ নামক একজন ব্রিটেন নাগরিক তার একটি আঙ্গুল মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় সে উক্ত বিচ্ছিন্ন আঙ্গুলটি খেয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে ডাক্তারের জিজ্ঞাসাবাদে সে তা উল্লেখ করে। সবচেয়ে মজাদার বিষয় হচ্ছে, সে তার নিজের আঙ্গুলটি খাওয়ার পুর্বে তা একটি টেবিলে কাটা চামচ দিয়ে পরিবেশন করে চিত্রধারণ করে এবং ফেসবুকে তা আপলোড দেয়।


(২) ১৭ শতকের শুরুর দিকে এলিজাবেথ বাথোরী নামক এক পেশাদার খুনী এক অভিযোগের কারণে তার দুই গৃহকর্মীকে বাধ্য করেছিলো যেন তারা তাদের নিজ দেহের মাংস বক্ষণ করে।

(৩) মৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত আন্ড্রে টমাস ২৭শে মার্চ, ২০০৪ সনে তার ২০ বছর বয়সী তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং হত্যার পর তাদের শরীরের উপর নৃশংস কর্মকান্ড চালায়। অতঃপর সে নিজের শরীরেও আত্মহত্যার জন্য ছুরিকাঘাত করে, কিন্তু সে বেঁচে যায়। হত্যাকান্ডের ৫ দিন পর সে তার একটি চোখ খালি হাতে তুলে ফেলে। ২০০৮ সাল, ডিসেম্বরের ৯ তারিখ কারাদন্ডে সে তার শেষ চক্ষুটি উঠিয়ে ফেলে এবং তা খেয়ে ফেলার মাধ্যমে অন্ধত্ব বরণ করে।

আন্ড্রে টমাস ২০০৫ সালের ট্রায়ালের সময়।


(৪) তুর্কিতে অবস্থানরত ৩৪ বছর বয়সী এক পুরুষ কারাবন্দী ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে, ছুরি দ্বারা তার রানের মাংস কেটে তা ১ ঘন্টা যাবৎ খায়। তাকে চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যাওয়া হলে তার চেহারায় শান্তভাব পরিলক্ষিত হয় এবং অন্য কারাবন্দীদের নিকট থেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় এমন নিন্দিত কান্ড ঘটায় তার আগের বছরেও ঘটায়।

(৫) ১৯৯০ সালে সুদানে ধর্মীয় বিষয়ের উপর জের ধরে, কিছু যবকদের কান কর্তন করে ফেলা হয় এবং তাদের ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে তাদের কর্তিত কর্ণ জোর করে খেতে দেওয়া হয়।

স্ব নরমাংসবাদ কী?

ঘটনাসমূহ পড়ার পর বুঝতেই পারছেন, স্ব-নরমাংসবাদ আসলে কী বুঝাচ্ছে। তবুও বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করার লক্ষ্যে যদি বলতে চাই, তাহলে স্ব-নরমাংসবাদের অর্থ দাঁড়ায় নিজের দেহের অংশ নিজে ভক্ষণ করা। অনেকটা আত্মভক্ষণের সাথে যোগসূত্র পাওয়া যায়, যদিও আত্মভক্ষণ সম্পাদিত হয় শরীরের ভিতরে। আমরা সচারাচর আমাদের নখ কামড়ায়, ঠোঁটের চামড়া উঠিয়ে ফেলি, কিন্তু মজার বিষয় হলো অনেক চিকিৎসক এসব কার্যক্রমকেও স্ব-নরমাংসবাদের তালিকায় চিহ্নিত করেছেন। যদিও এর বিরোধিতা এবং দ্বিমত বিরাজমান। অনেকে ধারণা করেন এটি উরবোরস নামক মিশরিয় মূর্র্তিশিল্প থেকে আগত হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে একটি সাপ বা ড্রাগন তার নিজের লেজ নিজে খাচ্ছে।

একটি স্বর্প তার নিজের লেজ নিজে খাচ্ছে।

স্ব-নরমাংসবাদ কেন হয়?

স্ব-নরমাংসবাদের উৎপত্তি কীভাবে হয়, এটি কি শারীরিক নাকি মানসিক সমস্যা বা এর মূল কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে মনঃচিকিৎকসরা আদৌ কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। অনেকে মনোব্যাধি এবং আত্মপ্রেমের লক্ষণ থাকা মানুষদের, স্ব-নরমাংসবাদের সাথে জড়িত থাকার জন্য দায়ী করেন। স্ব-নরমাংসবাদ মানুষদের মধ্যে ৩ ভাবে পরিলক্ষিত হয়, প্রথমত শরীরের অভ্যন্তরে বা প্রাকৃতিকভাবে। দ্বিতীয়ত, কোন ব্যাধি বা রোগের লক্ষণ থেকে। এবং সর্বশেষে ঐচ্ছিকভাবে। তাছাড়াও এটি অপরাধের রূপেও সংঘটিত হয়। এবং ইতিহাসে নরমাংসভক্ষণপ্রথার অনেক ধাপ রয়েছে, তার মধ্যে স্ব-নরমাংসবাদ একটি। নরমাংসভক্ষণপ্রথার ঘটনার সংখ্যা বিপুল পরিমাণে রয়েছে, যা এই আধুনিক যোগে বেঁচে থাকার তাগিদে হলেও একটি নৃশংস অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আমাদের চারপাশেও হয়তো অনেকের মধ্যেই এই ধরণের এই সমস্যাটা থাকতে পারে। আমাদের উচিত দেরি না করে কোন মনোবিদের সাথে পরামর্শ করা।



———————————————–REFERENCES———————————————–

1. Self-cannibalism
2. Autophagia
3. The Lambeth Daily
4. Self-Cannibalism: The Man Who Eats Himself
5. ANDRE THOMAS: INSANE IN TEXAS
6. List of incidents of cannibalism


    লেখক সম্পর্কে

    devadministrator